বছরের শেষ দিকে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। আর প্রথম দিকে সিলেটসহ ছয়টি সিটি কর্পোরেশনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ দুটি নির্বাচনকে উপলক্ষ করে মঙ্গলবার হজরত শাহজালাল ও শাহপরান (রহ.) এর মাজার জিয়ারত করে সিলেট থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করবেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

৩০ জানুয়ারি সিলেটের মাধ্যমে নিজের এই নির্বাচনী সফর শুরু করছেন প্রধানমন্ত্রী। মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় সিলেট আলীয়া মাদরাসা মাঠে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির ভাষণ দেবেন তিনি।

দলীয় প্রধানের সিলেট সফরকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। সিলেটজুড়ে অনেকটা আগেভাগেই নির্বাচনী আমেজ দেখা দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের মাধ্যমে আসন্ন সিটি ও জাতীয় নির্বাচনের প্রচারণা শুরু হবে এমনটি জানিয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ। ফলে এই জনসভায় গুরুত্ব পাচ্ছে নির্বাচন কেন্দ্রিক ভাবনা।

সিটি ও জাতীয় নির্বাচনের সম্ভাব্য মেয়র ও সংসদ সদস্য প্রার্থীরা প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে রয়েছেন সবচেয়ে তৎপরত। দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার সুদৃষ্টিতে আসার জন্য নগরজুড়ে তোরণ, বিলবোর্ড, ব্যানার, ফেস্টুন টানিয়েছেন। সিটি মেয়র আর বিভিন্ন আসনের সাংসদ প্রদ প্রার্থীদের ব্যানার-ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে সিলেট নগর।

আলীয়া মাদরাসা মাঠের জনসভায় ব্যাপক শো-ডাউনেরও প্রস্তুতি নিচ্ছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। জনসভায় লোক সমাগমের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান জানান দিতে চান তারা। আর দলীয়ভাবে আওয়ামী লীগও সরকারের শেষ সময়ে এসে প্রধানমন্ত্রীর জনসভার মাধ্যমে নিজেদের জনপ্রিয়তা জানান দিতে দিনরাত সিলেট প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছেন। কোন্দল আর বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে আগামী নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি হিসেবেও এই জনসভাকে দেখছেন সিলেটের শীর্ষ আওয়ামী লীগ নেতারা।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরান বলেন, আগামী নির্বাচনে জয়লাভের জন্য এই জনসভা থেকে প্রধানমন্ত্রী নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দেবেন। তার নির্দেশনা অনুযায়ী নির্বাচনকে ঘিরে আমাদের কর্মতৎপরতা শুরু হবে। এই জনসভার মাধ্যমেই নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করবেন শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, মঙ্গলবারের জনসভা সফল করার লক্ষ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। জনসভাস্থল জনসমুদ্র থেকে মহাসমুদ্রে পরিণত হবে।

সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক এমপি শফিকুর রহমান চৌধুরী বলেন, ২০১৮ সাল নির্বাচনের বছর। এবছর সিটি নির্বাচন ও জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনকে উপলক্ষ করেই প্রধানমন্ত্রী আসছেন। ফলে নেতাকর্মীরাও উজ্জীবীত। সবাই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। তার সফরে দলের ঐক্য আরো শক্তিশালী হবে। যা আগামী নির্বাচনগুলোতে প্রভাব ফেলবে। মঙ্গলবার গোটা সিলেট শহরই একটা মাঠে পরিণত হবে।

সম্ভাব্য প্রার্থীরা দলীয় মনোনয়ন চেয়ে নগরজুড়ে ব্যানার ফেস্টুন টানালেও আলীয়া মাদরাসার জনসভা থেকে প্রার্থীর ব্যাপারে কোনো ঘোষণা আসবে না বলে জানিয়েছেন সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিটি নির্বাচনে মেয়র পদপ্রার্থী আসাদ উদ্দিন আহমদ।

নগর আওয়ামী লীগের এই শীর্ষ নেতা বলেন, জনসভা থেকে প্রার্থীর ব্যাপারে কোনো ঘোষণা আসবে না। এটা নির্বাচনী বোর্ড নির্ধারণ করবে। জনসভায় প্রধানমন্ত্রী নৌকার পক্ষে ভোট চাইবেন। নৌকার প্রার্থী যাকে করা হবে তাকেই ভোট দিতে জননেত্রী শেখ হাসিনা আহ্বান জানাবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here